ট্রুথ সিরাম কি? (What Is Truth Serum?)। অাদৌ কি এটা সত্য বলার ওষুধ? – পর্ব ১

ট্রুথ সিরাম (Truth Serum)। সত্য বলার ওষুধ…. ধরুন আপনার জন্মদিনের পার্টিতে অনেক অতিথি এসেছে পার্টি শেষ হওয়ার পর পরদিন সকালে দেখা গেল আপনার বাসা থেকে মহাগুরুত্বপূর্ণ কোন ফাইল হারিয়ে গেছে এখন কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না।

চিন্তায় মাথার চুল ছিড়ছেন। চিন্তা নেই এরজন্য আছে Truth Serum.

সন্দেহভাজন লোকদের ধরে এনে কৌশলে একটু Truth Serum প্রয়োগ করলে দেখবেন চোর বাবাজি সব সত্য কথা হড়হড়িয়ে বলে দেবে। তাহলে আর দেরী কেন আসুন জানা যাক ট্রুথ সিরাম এর কেরামতি সম্পর্কে।

ট্রুথ সিরাম (সত্য বলার ওষুধ) কি?

যে সকল রাসায়নিক পদার্থ মানবদেহে প্রয়োগ করলে মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষমতা কমে যায় এবং মানুষ মস্তিস্কে জমা থাকা পূর্বস্মৃতি হতে সকল সত্য তথ্য বিবেচনা না করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলে ফেলে তাকে ট্রুথ সিরাম বলে।

ট্রুথ সিরাম (Truth Serum) এর প্রকৃতি:

Truth Serum এক ধরনের বারবিচুরেট জাতীয় পদার্থ বা ঔষধ।এটি মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী অংশের উপর প্রভাব ফেলে। এটি এক ধরনের কৃত্রিম হেলুসিলনেশন তৈরি করে।

বার্বিচুরেট:

ট্রুথ সিরাম আবিষ্কারের ইতিহাস:

১৯১০ সালে ড.রবার্ট হোস সর্ব প্রথম লক্ষ্য করেন যে অবচেতণকারী ঔষধ স্কোপোলামিন রোগীর দেহে প্রবেশ করালে রুগি এমন এক মানসিক অবস্থার মধ্যে প্রবেশ করে যে, রোগী এক ধরনের ঘোরের মধ্যে নিজ থেকে সকল সত্য তথ্য গল্পের মত বলতে শুরু করে।

অর্থাৎ কোন মানুষের ওপর স্কোপোলামিন প্রয়োগ করলে মানুষটি আপনাআপনি সকল সত্য তথ্য প্রশ্নের উত্তরের প্রেক্ষিতে বলে দেয়।

ডক্টর রবার্ট হোস দাগি আসামিদের শারীরিক শাস্তির মাধ্যমে সত্য কথা আদায় করার যন্ত্রণা কমানোর জন্য বা গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে গোপন তথ্য উদঘাটন করতে এই কৌশল ব্যবহার করতে চান নি।
নিরাপরাধ মানুষ ষড়যন্ত্রের শিকার হলে তাকে যন্ত্রণাদায়ক জিজ্ঞাসাবাদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য তিনি এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গোপন তথ্য আদায় করার জন্য সেনাবাহিনীর ডাক্তারগণ শত্রুপক্ষের স্পাইদের ওপর ব্যাপক হারে প্রয়োগ করতে থাকেন এই ওষুধগুলো।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এই ঔষধগুলো “ট্রুথ সিরাম” নামে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় বর্তমানে অনেক দেশে এই ড্রাগ আইন সঙ্গতভাবে প্রয়োগ করা হয়।
২০০৮ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলায় আটক হওয়া জঙ্গী আজমল কাসাব কে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় Truth Serum প্রয়োগ করা হয়।
১৯৫০-১৯৬০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সিআইএ  Project MKULTRA এবং Project MKDELTA পরিচালনার সময় Truth Serum ব্যবহার করে।

স্নায়ু যুদ্ধের সময় রাশিয়ার কেজিবি Truth Serum এর ব্যাপক ব্যবহার করত।

ট্রুথ সিরাম কিভাবে কাজ করে?

ট্রুথ সিরাম মানবদেহে ইনজেকশনের মাধ্যমে সরাসরি রক্তে প্রবেশ করানো হয় অথবা ট্যাবলেট হিসেবে মুখে বা পায়ুপথে ব্যবহার করা হয়।

Truth Serum রক্তে প্রবেশ করার পর প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে স্পাইনাল কর্ডে প্রবেশ করে। স্পাইনাল কর্ড থেকে ঔষধ মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল কর্টেক্সে প্রবেশ করে।

মস্তিষ্কের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী অংশগুলো Truth Serum এর প্রভাবে প্রভাবিত হয় এর ফলে একই সাথে একাধিক সংকেত মস্তিষ্কে প্রেরিত হলে Truth Serum এর প্রভাবে শুধু একটি সংকেত বিশ্লেষিত হয়। বাঁকি সংকেতগুলো উপেক্ষিত থাকে।Truth Serum এর প্রভাবে হেলুসিনেশন তৈরি হয়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*